Short Description
ব্ল্যাক গার্লিক একটি ফার্মেন্টেড খাদ্য উপাদান যা সাধারণ রসুনের চেয়ে বেশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এবং এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এটি ক্লান্তি ও স্ট্রেস কমাতেও কার্যকর এবং এতে ভিটামিন বি ও প্রোটিনও থাকে।
ব্ল্যাক গার্লিক কীভাবে তৈরি হয়?
ব্ল্যাক গার্লিক (Black Garlic) বা কালো রসুন হল ফার্মেন্টেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি এক ধরনের বিশেষ রসুন। সাধারণ রসুনকে উচ্চ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে রাখলে এটি কালো বর্ণ ধারণ করে এবং এর স্বাদ মিষ্টি, নরম ও চিবানোর মতো হয়। এটিতে সাধারণ রসুনের চেয়ে বেশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, কোলেস্টেরল কমানো ও হার্টের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সহায়ক বলে বিবেচিত হয়।
ব্ল্যাক গার্লিক এর উপকারিতা
- হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস: এটি “খারাপ” কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় এবং রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে।
- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: ব্ল্যাক গার্লিক রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, যা টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী।
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: উচ্চ মাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকার কারণে এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং কোষের ক্ষতি রোধ করে।
- মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য: এটি মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ভালো রাখতে সাহায্য করে।
- হজম শক্তি বৃদ্ধি: ব্ল্যাক গার্লিক হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে।
- ক্লান্তি ও মানসিক চাপ কমায়: এটি শরীরকে ক্লান্তি ও মানসিক চাপ থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করে।
- অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ: এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করে।
ব্ল্যাক গার্লিক খাওয়ার নিয়ম:
ব্ল্যাক গার্লিক একটি মিষ্টি ও সুস্বাদু খাবার যা সস, স্যুপ, স্যালড ড্রেসিং, এবং বিভিন্ন সবজির খাবারে ব্যবহার করা যায়। এটিকে সরাসরি বা পনিরের সাথে মিশিয়েও খেতে পারেন।
Term And Condition...
সালটা ২০২০ এর মার্চ। করোনার ভয়াল থাবায় সারা পৃথিবী বন্ধ হয়ে আছে। সবাই প্রায় গৃহবন্দী সকল অফিস, ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান প্রায় অচল। আমাদের একটা বিজনেস মাত্র আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছে। কিন্তু করোনার জন্য হঠাৎ করেই অমানিশার মাঝে পড়ে গেলাম।
ঢাকা শহরের জীবন, দম নিলেও টাকার দরকার পড়ে। অপেক্ষার পালা শেষ হয়না। কি হবে কি হবে ভেবেই দিন যাচ্ছে। আমরা হাসবেন্ড-ওয়াইফ দুইজন মিলে প্রতিটি দিন প্লান করি যে চলমান বিজনেস টা যদি অফ হয়ে যায় তাহলে কি করবো। আমার বেটার হাফ এর মন খুবই খারাপ কেননা এই কস্টের সময়ে সে আমাকে কোন সাহায্য করতে পারছেনা। পরে আমরা দুইজনেই মিলে একটা সিদ্ধান্ত নেই, যেহেতু ও খুব ভালো রান্না করে এই দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আমরা হোমমেড ফুড অনলাইনে সেল করতে পারি।
যা ভাবা সেই মত শুরু করলাম। প্রথমে এটা ওটা যখন যা মনে হয় ওটাই বানাই ছবি তুলে হোমমেড ফুড এর একটা অনলাইন প্লাটফর্ম আছে ওখানে পোস্ট দেই। সপ্তাহে দুইচার টা অর্ডার পাই কিন্তু তাতে মন ভরেনা। ভাবি এভাবেই চললে বড় কিছুই হবেনা। এভাবেই প্রায় ৪-৫ মাস চলার পরে ২০ জুলাই ২০২০ এ আমরা ফেসবুকে একটা পেজ খুলার সিদ্ধান্ত নেই। ওখানে বিভিন্ন খাবারের ছবি তুলে পোস্ট করতে থাকি। পাশাপাশি বিভিন্ন বড় বড় উদ্যোক্তা দের ফেসবুক গ্রুপগুলো তে খাবারের পোস্ট শেয়ার করতে থাকি। ওখান থেকে কিছু কিছু অর্ডার আসতে থাকে। কিন্তু মাথায় শুধু একটাই চিন্তা এই ব্যাবসা কে কিভাবে বাড়িয়ে তোলা যায়। যেহেতু আমার আগের বিজনেস টার সুবাদে ফেসবুক এর বিজ্ঞাপন সম্পর্কে কিছু ধারণা ছিল এটাকে কাজে লাগানোর চিন্তা করি। কিন্তু মনে মনে ভাবি যে বিজ্ঞাপন দিয়ে কি খাবার সেল হবে কিনা? তবুও টেস্ট করতে চাইলাম। আমাদের সবচে জনপ্রিয় বা সিগনেচার আইটেম চিংড়ি বালাচাও টার একটা বিজ্ঞাপন রেডি করলাম। এর মাঝামাঝি আমি নতুন চাকরি খুজছি সারভাইভাল এর জন্য। কারন ফ্যামিলি নিয়ে তো টিকে থাকতে হবে।
যাই হোক কোনরকমে কিছু টাকার ম্যানেজ করে ফেসবুকে এড দেই। আলহামদুলিল্লাহ ভালো সাড়া আসতে থাকে। তবে এই বিজনেস টা এতদুর আসার জন্য আমার ওয়াইফ এর অনেক স্যাক্রিফাইস আছে। ও আমার পাশে না থাকলে কখনোই এই পর্যায়ে আসা সম্ভব ছিলনা। জীবনের কঠিন মুহুর্ত গুলোতে যদি আপনার পাশে একজন ভালো পার্টনার থাকে তাহলে আপনি সব পারবেন।
প্রথমে আমরা চিংড়ি বালাচাও দিয়েই শুরু করি। এখন আলহামদুলিল্লাহ আমাদের বেশ কিছু প্রোডাক্ট যুক্ত হয়েছে।
তবে সর্বপরি একটা কথা বলতেই হবে আমাদের কাস্টমার দের সাপোর্ট সবসময় আমাদের সাথেই ছিল। আপনারা ও আপনাদের অনুপ্রেরণা আমাদেরকে এতদূর আসতে সাহস যুগিয়েছে। আমরা সব সময় আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ। আমাদের ভুল ভ্রান্তি কে উপেক্ষা করে আমাদের পাশে থাকার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।